সরাসরি বিএনপির রাজনীতিতে ন্যান্সি

ঢাকা : এতদিন শুধু মঞ্চে গান গেয়ে মঞ্চ মাতিয়েছেন। এবার শুধু গানের মঞ্চে নয়, এখন থেকে রাজনীতির মাঠেও দেখা যাবে সংগীতশিল্পী ন্যান্সিকে।

আজ বৃহস্পতিবার দুপুরে তিনি বিএনপির অঙ্গসংগঠন জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সহ-সভাপতি মনোনীত হয়েছেন।

ন্যান্সি বলেন, অনেক আগে থেকেই জাতীয়তাবাদী আদর্শের প্রতি আমার ভালো লাগা। আমার মা নেত্রকোনা জাসাসের কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান তারেক রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ আমাকে মুগ্ধ করেছে। তবে এটা সত্যি যে, এত তাড়াতাড়ি আমি রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হতে চাইনি। আমি চেয়েছিলাম নিজেকে আরও ভালোভাবে তৈরি করে তারপর রাজনীতিতে আসতে।

তিনি বলেন, আমি মনে করি শিল্পী ন্যান্সি সবার। শ্রোতাদের কারণেই আমি ন্যান্সি হয়েছি। তার মানে এই নয় যে, শিল্পী ন্যান্সির কারণে মানুষ হিসেবে আমার কোনো ব্যক্তিগত মতামত থাকতে পারে না!

কয়েক মাস আগে নিজের ফেসবুক স্ট্যাটাসে সরকারের সমালোচনা করায় ব্যাপক তোপের মুখে পড়তে হয়েছিল সঙ্গীতশিল্পী ন্যান্সিকে। ওই প্রসঙ্গ টেনে ন্যান্সি বলেন, দেশের অন্য সব মানুষের মতো আমারও রাজনৈতিক মতাদর্শ থাকতে পারে। সেই মতাদর্শের জায়গা থেকে বর্তমান সরকারের কর্মকাণ্ডে অসন্তুষ্ট হয়ে ফেসবুকে আমার একান্ত ব্যক্তিগত মতামত ব্যক্ত করেছিলাম। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে একটি মহল অযথা আমাকে নানাভাবে নাজেহাল করে। একপর্যায়ে তা মাত্রা ছাড়িয়ে যায়।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে মত প্রকাশের বিষয়টি তাঁর পেশাজীবনকেও বিপর্যস্ত করে তোলে বলে জানান ন্যান্সি। তিনি বলেন, ফেসবুকের মতামতের রেশ এসে পড়ে আমার পেশাগত কর্মকাণ্ডে। অজ্ঞাত কারণে একের পর এক বন্ধ হয়ে যেতে থাকে আমার সব স্টেজ শো। আমাকে গভীর ভাবনায় ফেলে দেয় এ সব বিষয়। বিভিন্ন মাধ্যম থেকে জানতে পারি, বিএনপির রাজনীতির প্রতি আমার সমর্থন থাকার কারণে নাকি শোগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছে। আমি সবাইকে বোঝাতে চাই, ব্যক্তি ন্যান্সিকে অযথা রাজনীতির সঙ্গে মেলাবেন না। আমার যদি গান গাওয়ার যোগ্যতা না থাকে তাহলে ভিন্ন কথা।

রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত হওয়া প্রসঙ্গে জনপ্রিয় এই গায়িকা আরও বলেন, একটা রাজনৈতিক আদর্শের প্রতি সমর্থনের কারণে এভাবে আমার প্রতি অবিচার করার তো কোনো মানে হয় না। তাই শেষমেশ মনে হলো, আমাকে জড়িয়ে রাজনীতি নিয়ে যখন এতই কথা হচ্ছে, তখন পদ-পদবি নিয়ে কাজ করলে অন্তত অপবাদ থেকে মুক্ত হতে পারব। শত ঝড়-ঝাপটার মধ্যেও আমি কোনো কিছুর কাছে মাথা নত করিনি। তা ছাড়া আমি মনে করেছি, আমার মতো দেশের অনেক তরুণ আছে, যারা বর্তমান সরকারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে অসš‘ষ্ট। আমি আমার সিদ্ধান্তে অনড় থেকে শেষ পর্যন্ত রাজনীতিতে নাম লেখালাম। আমার ভক্ত-শ্রোতা যাঁরা আছেন, তাঁরা অন্তত আমার দ্বারা কিছুটা হলেও অনুপ্রাণিত হবেন।’